এটা আমাদের অনেকের সাথেই ঘটে এবং মনে হয় যেন সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের মন পড়তে পারছে। তবে এর পেছনে আসলে কোনো অলৌকিক ক্ষমতা বা আপনার চিন্তা পড়ার প্রযুক্তি নেই। মূলত অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যালগরিদম এবং আপনার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ব্যবহার করে তারা আপনার পরবর্তী প্রয়োজন বা ইচ্ছা অনুমান করে।
এখানে প্রধান কিছু কারণ দেওয়া হলো:
১. প্রেডিক্টিভ অ্যানালিটিক্স (Predictive Analytics)
এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আপনার অতীত আচরণ বিশ্লেষণ করে আপনি ভবিষ্যতে কী ভাবতে পারেন বা কী কিনতে পারেন তার একটি প্যাটার্ন তৈরি করে। যেমন: আপনার বয়স, লিঙ্গ, লোকেশন এবং আপনি অনলাইনে কোন ধরনের পোস্টে কতক্ষণ সময় কাটাচ্ছেন সবই ডাটা হিসেবে জমা হয়। একই প্রোফাইলের অন্য হাজার হাজার মানুষ যদি কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের দিকে ঝুঁকে থাকে, তবে আপনি চিন্তা করার আগেই সেই পণ্যের বিজ্ঞাপন আপনার সামনে চলে আসে।
২) লোকেশন এবং পিক্সেল ট্র্যাকিং (Location & Pixel Tracking)
আপনি হয়তো কোনো বন্ধুর সাথে দেখা করেছেন বা কারো বাড়ির পাশ দিয়ে গিয়েছেন। ফেসবুক বা গুগল আপনার লোকেশন জানে। যদি আপনার সেই বন্ধু কোনো নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট নিয়ে সার্চ করে থাকে বা কোনো দোকানে চেক-ইন দেয়, তবে ওই একই বিজ্ঞাপন আপনার কাছেও আসতে পারে। কারণ অ্যালগরিদম (Algorithm) ধরে নেয় যে আপনাদের পছন্দ বা প্রয়োজন কাছাকাছি।
৩) অফলাইন ডাটা শেয়ারিং (Offline Data Sharing)
আপনি হয়তো কোনো ফিজিক্যাল শপ বা সুপার শপে নিজের ফোন নম্বর বা ইমেইল ব্যবহার করে মেম্বারশিপ নিয়েছেন। অনেক সময় এই শপগুলো তাদের কাস্টমার ডাটা ফেসবুক বা অন্যান্য অ্যাড নেটওয়ার্কের কাছে বিক্রি করে। ফলে আপনি অনলাইনে সার্চ না করলেও সেই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন আপনার কাছে চলে আসে।
৪) মাইক্রো-মুভমেন্ট ট্র্যাকিং (Micro-Movement Tracking)
আমরা অনেক সময় অবচেতন মনে কোনো একটা পোস্টে ২-৩ সেকেন্ড বেশি সময় দেই বা স্ক্রল করার গতি কমিয়ে দেই। এই সামান্য বিরতিটুকুও সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাক করে এবং আপনার আগ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করে।
৫) কনফার্মেশন বায়াস (Confirmation Bias)
আমরা সারাদিনে শত শত বিজ্ঞাপন দেখি যেগুলো আমাদের মনে থাকে না। কিন্তু হঠাৎ যখন এমন কিছুর বিজ্ঞাপন দেখি যা আমরা কেবল চিন্তা করেছি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেটাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। একে বিজ্ঞানের ভাষায় বাডার-মাইনহফ ফেনোমেনন (Baader-Meinhof Phenomenon) বলা হয়।
একটি প্রচলিত ভুল ধারণা: অনেকে মনে করেন অ্যাপগুলো সব সময় আমাদের কথা আড়িপেতে শোনে। যদিও প্রযুক্তিগতভাবে এটি সম্ভব, তবে টেক জায়ান্টগুলো সবসময় এটি অস্বীকার করে আসছে। মূলত তাদের ডাটা অ্যানালাইসিস এতই নিখুঁত যে, মাইক্রোফোন ব্যবহার না করেই তারা আপনার মনের খবর অনুমান করতে পারে।
কিভাবে বন্ধ করবেন?
- আপনার ফোনের Settings > Privacy > Tracking থেকে অ্যাপ ট্র্যাকিং বন্ধ করে রাখতে পারেন।
- ফেসবুকের Ad Preferences থেকে আপনার ব্যক্তিগত পছন্দগুলো রিসেট করতে পারেন।


0 মন্তব্যসমূহ